অনার্সের তুলনায় ডিগ্রি পাস কোর্স নিয়ে অনলাইনে তথ্য অনেক কম পাওয়া যায় — অথচ ডিগ্রি পাস কোর্সে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কম না। এই লেখায় ডিগ্রি পাস কোর্সের রেজাল্ট কোথায় পাবেন আর সিজিপিএ কীভাবে বের করবেন, সেটা নিয়ে বিস্তারিত লিখলাম।
ডিগ্রি পাস কোর্স আসলে কী
ডিগ্রি পাস হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ বছর মেয়াদী স্নাতক প্রোগ্রাম — অনার্সের ৪ বছরের চেয়ে ছোট, আর সাবজেক্ট কাঠামোও কিছুটা আলাদা। রেজাল্ট আর গ্রেডিং পদ্ধতি মূলত একই ধরনের চলে, শুধু প্রতি বছরের কোর্স সংখ্যা আর ক্রেডিট বণ্টন ভিন্ন।
ডিগ্রি রেজাল্ট কোথায় পাবেন
পদ্ধতি অনার্সের মতোই — nu.ac.bd এর অফিসিয়াল রেজাল্ট পোর্টালে গিয়ে প্রোগ্রাম হিসেবে "Degree Pass" বেছে নিয়ে রোল আর রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সার্চ করুন। মোবাইল দিয়ে দেখার নিয়ম এবং এসএমএস পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত লেখা আছে এই পোস্টে — একই নিয়ম ডিগ্রি পাসের জন্যও কাজ করে।
ডিগ্রি পাসের সিজিপিএ কীভাবে বের করবেন
সূত্রটা ঠিক অনার্সের মতোই — ক্রেডিট আওয়ার দিয়ে ওজন দিয়ে গ্রেড পয়েন্টের গড় করা হয়:
বছরের GPA = (গ্রেড পয়েন্ট × ক্রেডিট) এর যোগফল ÷ মোট ক্রেডিট
একটা উদাহরণ দেখা যাক, ১ম বর্ষের তিনটা কোর্স:
| কোর্স | ক্রেডিট | গ্রেড | পয়েন্ট | পয়েন্ট × ক্রেডিট |
|---|---|---|---|---|
| কোর্স ১ | ৪ | B+ | ৩.২৫ | ১৩.০০ |
| কোর্স ২ | ৪ | B | ৩.০০ | ১২.০০ |
| কোর্স ৩ | ৪ | A- | ৩.৫০ | ১৪.০০ |
মোট ক্রেডিট = ১২, মোট পয়েন্ট×ক্রেডিট = ৩৯.০০। ভাগ করলে GPA আসে ৩.২৫। ৩ বছর শেষ হলে প্রতি বছরের GPA আবার ক্রেডিট দিয়ে ওজন করে চূড়ান্ত CGPA বের হয় — একদম অনার্সের মতোই, শুধু বছর সংখ্যা কম।
নিজে হিসাব না করে ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন
ডিগ্রি পাসের নির্দিষ্ট সাবজেক্ট আর ক্রেডিট আমাদের ডিগ্রি পাস ক্যালকুলেটরে আগে থেকেই বসানো আছে — নিজের বিভাগ বেছে নিয়ে শুধু গ্রেড বসিয়ে দিলেই হবে। অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে বা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব করতে চাইলে আমাদের সার্বজনীন GPA ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে নিজের সাবজেক্ট আর ক্রেডিট নিজেই বসাতে পারবেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ডিগ্রি পাসের সিজিপিএ কি অনার্সের মতো একই নিয়মে হয়?
হ্যাঁ, ভিত্তি একই — শুধু কোর্স সংখ্যা আর মোট বছর আলাদা (ডিগ্রি ৩ বছর, অনার্স ৪ বছর)।
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিজিপিএও কি একইভাবে বের হয়?
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা প্রতিষ্ঠান, তাই নিজের রেজাল্ট শীটে নিয়ম দেখে নেওয়া ভালো। মূল ক্রেডিট-ভিত্তিক হিসাব সাধারণত একই থাকে, আর সার্বজনীন ক্যালকুলেটর দিয়ে যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব করা যায়।