অনেকেই খুঁজে বেড়ায় "সিজিপিএ বের করার লিংক" — একটা জায়গা, যেখানে গ্রেড বসালেই সাথে সাথে হিসাব বেরিয়ে আসবে, বার বার ফেসবুক গ্রুপে বা ব্লগে লিংক খুঁজতে হবে না। এই পোস্টে সেই লিংকটাই দিলাম, আর সাথে দেখিয়ে দিলাম ধাপে ধাপে কীভাবে ব্যবহার করবেন।
সিজিপিএ বের করার লিংক
সরাসরি লিংক হলো আমাদের হোমপেজের ক্যালকুলেটর সেকশন। এখান থেকে নিজের প্রোগ্রাম, সিলেবাস বছর আর বিভাগ বেছে নিলেই সেই বিভাগের নিজস্ব ক্যালকুলেটর পেজে চলে যাবেন, যেখানে সব কোর্স আর ক্রেডিট আগে থেকেই বসানো থাকে — আপনাকে শুধু গ্রেড বেছে নিতে হবে।
এই পেজটাই বুকমার্ক করে রাখুন — প্রতি বছর নতুন রেজাল্ট আসার পর একই লিংক থেকে গ্রেড আপডেট করে সিজিপিএ দেখতে পারবেন, নতুন করে খুঁজতে হবে না।
ধাপে ধাপে যেভাবে ব্যবহার করবেন
- হোমপেজে যান — এখানে ক্লিক করুন, অথবা ওপরের "সিজিপিএ বের করার লিংক" এ ক্লিক করুন।
- প্রোগ্রাম বেছে নিন — অনার্স, ডিগ্রি পাস, নাকি অন্য কোনো প্রোগ্রাম, সেটা সিলেক্ট করুন।
- সিলেবাস বছর বেছে নিন — কোন সিলেবাসে ভর্তি হয়েছেন, সেটা মিলিয়ে নিন। ভুল সিলেবাস বেছে নিলে কোর্সের তালিকা মিলবে না।
- নিজের বিভাগ খুঁজুন — সার্চ বক্সে বিভাগের নাম লিখলে সরাসরি সেই বিভাগের ক্যালকুলেটরে চলে যাবেন। অ্যাকাউন্টিং, ফিজিক্স, ইংরেজি — যেকোনো বিভাগ লিখে সার্চ করলেই পেয়ে যাবেন।
- বর্ষ বেছে নিন — ১ম, ২য়, ৩য় বা ৪র্থ বর্ষের ট্যাবে ক্লিক করুন। প্রতিটা বর্ষের কোর্স আলাদাভাবে দেখানো হয়।
- প্রতিটা কোর্সে গ্রেড বসান — A+ থেকে F পর্যন্ত ড্রপডাউন থেকে নিজের পাওয়া গ্রেড বেছে নিন। রেজাল্ট এখনো না এলে সেই কোর্স খালি রেখে দিতে পারেন।
- ফলাফল দেখুন — গ্রেড বসানোর সাথে সাথে নিচে সেই বছরের জিপিএ আর সামগ্রিক সিজিপিএ দেখা যাবে, আলাদা করে হিসাব করতে হবে না।
- অন্য বর্ষে গিয়ে চালিয়ে যান — ট্যাব বদলে বাকি বছরগুলোর গ্রেডও বসিয়ে দিলে পুরো ডিগ্রির সিজিপিএ একসাথে দেখতে পারবেন।
কিছু কাজে লাগার মতো বিষয়
- ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হয় — গ্রেড বসানোর সাথে সাথে ব্রাউজারে সেভ হয়ে যায়, পরে আবার আসলেও মুছে যায় না।
- কোনো একাউন্ট লাগে না — সরাসরি ব্যবহার করা যায়, লগইন বা রেজিস্ট্রেশনের দরকার নেই।
- মোবাইল থেকেও কাজ করে — কম্পিউটার ছাড়াই মোবাইল ব্রাউজার দিয়ে একই পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়।
- নিজের বিভাগ না পেলে — অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়লে বা বিভাগ তালিকায় না থাকলে আমাদের সার্বজনীন ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন, যেখানে নিজের সাবজেক্ট ও ক্রেডিট নিজে বসাতে পারবেন।
গ্রেড বসানোর সময় সাধারণ সমস্যা
- নিজের বিভাগ খুঁজে পাচ্ছেন না — বাংলা বা ইংরেজি দুই ভাষাতেই সার্চ করে দেখুন, অথবা প্রোগ্রাম ও সিলেবাস বছর ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন।
- সিজিপিএ প্রত্যাশার চেয়ে কম দেখাচ্ছে — প্রতিটা কোর্সে সঠিক গ্রেড বসিয়েছেন কিনা আবার মিলিয়ে দেখুন, একটা ভুল গ্রেডও পুরো হিসাব বদলে দিতে পারে।
- আগের গ্রেড হঠাৎ উধাও — ব্রাউজারের প্রাইভেট বা ইনকগনিটো মোডে ব্যবহার করলে ডেটা সংরক্ষিত হয় না। সাধারণ ব্রাউজার মোডে ব্যবহার করাই নিরাপদ।
বিভাগভিত্তিক কিছু উদাহরণ
কিছু জনপ্রিয় বিভাগের সরাসরি লিংক নিচে দিলাম, যাতে সার্চ না করেই সরাসরি যেতে পারেন:
নিজের বিভাগ এই তালিকায় না থাকলে চিন্তার কিছু নেই — হোমপেজের সার্চ বক্সে লিখলেই পেয়ে যাবেন।
হাতে হিসাব vs ক্যালকুলেটর: কখন কোনটা
সত্যি কথা হলো — সব হিসাবের জন্য ক্যালকুলেটর লাগে না। মাত্র একটা বছরের GPA বের করতে হলে হাতে হিসাবই যথেষ্ট: প্রতিটা কোর্সের (গ্রেড পয়েন্ট × ক্রেডিট) যোগ করে মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করুন। কোর্স যদি ৫-৬টা হয়, এটা পাঁচ মিনিটের কাজ। সূত্রটা ভুলে গেলে আমাদের গ্রেডিং গাইডে উদাহরণসহ লেখা আছে।
কিন্তু তিনটা পরিস্থিতিতে ক্যালকুলেটর ছাড়া উপায় নেই: (১) চার বছরের সব কোর্স মিলিয়ে চূড়ান্ত CGPA বের করতে হলে — ৩০-৪০টা কোর্স হাতে হিসাবে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি; (২) "অমুক কোর্সে A- পেলে CGPA কত হতো" ধরনের সম্ভাব্য হিসাব দেখতে চাইলে; আর (৩) প্রতি বছর রেজাল্টের পর পুরনো হিসাব আপডেট করতে হলে — ক্যালকুলেটরে আগের গ্রেড সংরক্ষিত থাকে বলে শুধু নতুনগুলো বসালেই হয়।
বের করা ফলাফল ঠিক আছে কিনা যাচাই করবেন যেভাবে
ক্যালকুলেটর (এটা বা যেকোনোটা) ব্যবহার করলেও ফলাফলটা একবার নিজে যাচাই করে নেওয়া ভালো অভ্যাস। তিনটা সহজ পরীক্ষা আছে:
- সীমা পরীক্ষা: আপনার চূড়ান্ত CGPA সবসময় সবচেয়ে কম আর সবচেয়ে বেশি বছরের GPA-এর মাঝামাঝি থাকবে। চার বছরের GPA যদি ২.৯০ থেকে ৩.৫৫-এর মধ্যে হয়, তাহলে CGPA কখনোই ২.৯০-এর নিচে বা ৩.৫৫-এর ওপরে যেতে পারে না। এর বাইরে কিছু দেখালে নিশ্চিত কোনো গ্রেড ভুল বসেছে।
- বছর মিলিয়ে দেখা: ক্যালকুলেটরে বের করা প্রতিটা বছরের GPA মার্কশিটে ছাপা GPA-এর সাথে মিলিয়ে দেখুন। কোনো বছরে না মিললে ওই বছরের গ্রেডগুলো আবার যাচাই করুন — বেশিরভাগ সময় একটা কোর্সে ভুল গ্রেডই কারণ হয়।
- দশমিক পরীক্ষা: CGPA সাধারণত দুই দশমিক পর্যন্ত লেখা হয় (যেমন ৩.২৭)। ক্যালকুলেটরের সংখ্যা আর মার্কশিটের সংখ্যায় ০.০১-০.০২ পার্থক্য হলে সেটা সাধারণত রাউন্ডিং-এর ব্যাপার — চিন্তার কিছু নেই।
লক্ষ্য ঠিক করা: বাকি বছরগুলোতে কত GPA লাগবে
ক্যালকুলেটরের সবচেয়ে কাজের ব্যবহার সম্ভবত এটা — পেছনের হিসাব না, সামনের পরিকল্পনা। ধরুন দুই বছর শেষে আপনার ৬০ ক্রেডিটে গড় GPA ২.৯৫ (মোট পয়েন্ট ১৭৭)। পুরো ডিগ্রিতে মোট ক্রেডিট ১৩০, আর লক্ষ্য ফার্স্ট ক্লাস (৩.০০)। তাহলে মোট পয়েন্ট লাগবে ৩.০০×১৩০ = ৩৯০। ইতিমধ্যে আছে ১৭৭, বাকি লাগবে ২১৩ — বাকি ৭০ ক্রেডিটে। অর্থাৎ বাকি দুই বছরে গড়ে ৩.০৪ GPA তুলতে হবে।
এই একটা সংখ্যাই আপনার পুরো পড়ার পরিকল্পনা বদলে দিতে পারে — এখন আপনি জানেন ঠিক কতটা ভালো করতে হবে, আর কোন সেমিস্টারে কতটা জোর দিতে হবে। এই "উল্টো হিসাব"টা ক্যালকুলেটরে সম্ভাব্য গ্রেড বসিয়ে বসিয়ে নিজেও করে দেখতে পারেন — লক্ষ্যের সংখ্যাটা চোখের সামনে থাকলে পড়ায় মন বসে অনেক সহজে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
সিজিপিএ বের করার লিংক কোনটা?
হোমপেজ থেকে প্রোগ্রাম, সিলেবাস ও বিভাগ বেছে নিয়ে সরাসরি ক্যালকুলেটরে যাওয়া যায় — প্রতিটা বিভাগের নিজস্ব একটা পেজ আছে যেখানে কোর্স ও ক্রেডিট আগে থেকেই বসানো থাকে।
একাউন্ট লাগে?
না, কোনো একাউন্ট বা লগইন লাগে না।
ব্রাউজার বন্ধ করলে গ্রেড মুছে যাবে?
না, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হয় — একই ডিভাইস ও ব্রাউজারে পরে আবার আসলেও থেকে যাবে।