গ্রেডিং সিস্টেমবাংলা

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রেডিং সিস্টেম ও অনার্স সিজিপিএ ক্যালকুলেটর

By Kawsar Arafat৮ মিনিট লাগবে পড়তে
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় গ্রেডিং সিস্টেম ও অনার্স সিজিপিএ ক্যালকুলেটর

রেজাল্ট শীটে হাতে A+, B+, 3.75 — এই সংখ্যাগুলো দেখে মাথা গুলিয়ে যায়? চিন্তার কিছু নেই, প্রায় সবাই প্রথমবার এভাবেই আটকে যায়। কলেজে কেউ ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয় না, নোটিশ বোর্ডেও কোনো ব্যাখ্যা লেখা থাকে না। এই লেখায় পুরো ব্যাপারটা একদম সহজ ভাষায় বোঝানো হলো — নম্বর থেকে গ্রেড, গ্রেড থেকে গ্রেড পয়েন্ট, আর সব মিলিয়ে আপনার আসল সিজিপিএ কীভাবে বের হয়।

গ্রেডিং স্কেল — কোন নম্বরে কোন গ্রেড

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অনার্সে ৪.০০ পয়েন্টের স্কেল ব্যবহার করে। পরীক্ষায় পাওয়া নম্বর অনুযায়ী প্রতিটা কোর্সে একটা লেটার গ্রেড আর একটা গ্রেড পয়েন্ট দেওয়া হয়:

নম্বর (%)লেটার গ্রেডগ্রেড পয়েন্ট
৮০ – ১০০A+৪.০০
৭৫ – ৭৯A৩.৭৫
৭০ – ৭৪A-৩.৫০
৬৫ – ৬৯B+৩.২৫
৬০ – ৬৪B৩.০০
৫৫ – ৫৯B-২.৭৫
৫০ – ৫৪C+২.৫০
৪৫ – ৪৯C২.২৫
৪০ – ৪৪D২.০০
৪০ এর নিচেF০.০০

বেশিরভাগ বিভাগে এই স্কেলই চলে। তবে কিছু পুরনো সিলেবাসে (২০১৩-১৪) সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, তাই নিজের রেজাল্ট শীটের সাথে মিলিয়ে নেওয়াই ভালো।

একটা কোর্সের গ্রেড কীভাবে আসে

একটা থিওরি কোর্সের নম্বর সাধারণত দুই জায়গা থেকে আসে — কলেজের ইনকোর্স (২০ নম্বর, ক্লাস টেস্ট আর উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে) আর ইউনিভার্সিটির লিখিত পরীক্ষা (৮০ নম্বর)। বিজ্ঞান আর কিছু ব্যবসায় শিক্ষার কোর্সে আলাদা প্র্যাকটিক্যাল নম্বরও থাকে। এই দুই-তিনটা অংশ যোগ হয়ে একটা চূড়ান্ত নম্বর হয়, আর সেই নম্বর দিয়েই ওপরের টেবিল থেকে গ্রেড নির্ধারণ হয়।

বছরের GPA কীভাবে বের হয়

একটা বছরের সব কোর্সের গ্রেড পয়েন্ট বসিয়ে সরাসরি গড় (average) করলে হবে না। প্রতিটা কোর্সের ক্রেডিট আওয়ার অনুযায়ী ওজন (weight) দিয়ে হিসাব করতে হয় — যেমন ৪ ক্রেডিটের কোর্স ২ ক্রেডিটের কোর্সের দ্বিগুণ গুরুত্ব বহন করে। সূত্রটা এরকম:

বছরের GPA = (গ্রেড পয়েন্ট × ক্রেডিট) এর যোগফল ÷ মোট ক্রেডিট

একটা উদাহরণ দেখা যাক — প্রথম বর্ষের চারটা কোর্স:

কোর্সক্রেডিটগ্রেডপয়েন্টপয়েন্ট × ক্রেডিট
কোর্স ১A-৩.৫০১৪.০০
কোর্স ২B৩.০০১২.০০
কোর্স ৩B+৩.২৫৯.৭৫
কোর্স ৪A৩.৭৫১৫.০০

মোট ক্রেডিট = ১৫, মোট পয়েন্ট×ক্রেডিট = ৫০.৭৫। ৫০.৭৫ কে ১৫ দিয়ে ভাগ করলে বছরের GPA আসে ৩.৩৮। খেয়াল করুন, এটা কোনোভাবেই চারটা গ্রেড পয়েন্টের সাধারণ গড় না — ক্রেডিট বেশি হলে সেই কোর্সের প্রভাবও বেশি পড়ে।

সব বছর মিলিয়ে CGPA কীভাবে বের হয়

CGPA বের হয় একই নিয়মে, শুধু এক ধাপ ওপরে গিয়ে — এবার প্রতিটা কোর্স না, প্রতিটা বছরের GPA নিয়ে সেই বছরের মোট ক্রেডিট দিয়ে ওজন দিয়ে হিসাব হয়:

CGPA = (বছরের GPA × সেই বছরের ক্রেডিট) এর যোগফল ÷ সব বছরের মোট ক্রেডিট

তার মানে চতুর্থ বর্ষের রেজাল্ট এমনিতেই বেশি গুরুত্ব পায় না — যদি না সেই বছরে ক্রেডিট সংখ্যা বেশি থাকে। এই পুরো হিসাবটা এখানে আপনার বিভাগ বেছে নিয়ে ক্যালকুলেটরে অটোমেটিক করে নিতে পারবেন — নিজে হাতে হিসাব করার দরকার নেই।

ইম্প্রুভমেন্ট পরীক্ষা দিলে কী হয়

কোনো কোর্সে ইম্প্রুভমেন্ট দিলে পুরনো গ্রেড আর নতুন গ্রেডের গড় হয় না — নতুন গ্রেড পয়েন্টটাই পুরনোটার জায়গায় বসে যায়। তাই কোন কোর্সে ইম্প্রুভমেন্ট দেওয়া আসলেই লাভজনক, সেটা বোঝার আগে এই হিসাবটা মাথায় রাখা দরকার।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

সবচেয়ে ভালো গ্রেড কোনটা?

A+, পয়েন্ট ৪.০০। সাধারণত ৮০ বা তার বেশি নম্বরে পাওয়া যায়।

পাস করতে হলে কমপক্ষে কোন গ্রেড লাগবে?

D গ্রেড (প্রায় ৪০-৪৪ নম্বর), পয়েন্ট ২.০০। এর নিচে F, যাতে কোর্স পাস হয় না।

F পেলে কি সিজিপিএ থেকে বাদ যায়?

না। F এর পয়েন্ট ০.০০ হলেও ক্রেডিট হিসাবে যোগ হয়, তাই সিজিপিএ কমে যায়।

পুরো হিসাবটা বোঝা এক জিনিস, চার বছরের সব কোর্স হাতে হিসাব করা আরেক জিনিস — সেখানেই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই এই ক্যালকুলেটরটা বানানো — আপনার বিভাগ আর সিলেবাস বছর বেছে নিন, গ্রেড বসান, বাকিটা এমনিতেই হয়ে যাবে।

KA

Written by Kawsar Arafat

Developer of NU CGPA Calculator. Builds free tools for National University Bangladesh students after living through the same result-sheet confusion himself. More about this project →

Ready to calculate your own CGPA?

Pick your department and syllabus year — the calculator already knows every course and credit.

Open the CGPA Calculator